April 20, 2026, 5:02 am

কেশবপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা: থানায় মামলা

শামীম আখতার, বিভাগীয় প্রধান (খুলনা) যশোরের কেশবপুরে শেখ সোহেল (৩২) নামের এক নারী লোভী ও দুশ্চরিত্র কর্তৃক ৫ বছরের শিশুকে চকলেট খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে বসতবাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। গত রবিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার কালিয়ারই গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা উল্লেখ করে ওই শিশুর পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। তবে, ঘটনার পর থেকে ধর্ষণের চেষ্টাকারী এলাকা ছেড়ে গাঢাকা দিয়েছে।

থানার মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কালিয়ারই গ্রামের শেখ আব্দুস সবুর এর ছেলে নারীলোভী ও দুশ্চরিত্রহীন শেখ সোহেল গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে পার্শ্ববর্তী ৫ বছরের শিশু কন্যাকে চকলেট ও খাবার দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বসত ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানেই তার যৌন কামনা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে শিশু কন্যার পরনের হাফপ্যান্ট খুলে জোর পূর্বক ধর্ষনের চেষ্টা চালায়। ওইসময় শিশুটির ডাক-চিৎকারে দাদী শাহানাজ বেগমসহ এলাকাবাসী শেখ সোহেল এর বসতবাড়ির দিকে এগিয়ে গেলে শিশুটিকে ছেড়ে দিয়ে সে ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে নানা গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শিশু ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত শেখ সোহেল এর বসতবাড়ির ঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এলাকাবাসী অনেকেই বললেন ঘটনার পর থেকে সে এলাকা ছেড়ে গাঢাকা দিয়েছে।
এলাকাবাসী রুস্তম আলী শেখ বলেন, শিশুর ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনাটি খুবই জঘন্য ও নেক্কারজনক। প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সঠিক বিচারের দাবী করছি।
ধর্ষণের চেষ্টার বিষয়ে বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। বিষয়টি আমাকে মিমাংসা করার জন্য বলেছে, কিন্তু বিষয়টা মিমাংসা করার ক্ষমতা আমার নেই। এই দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশের।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মফিজুর রহমান বলেন, শিশু ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামীকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা